#পাকিং ... কি বিদঘুটে শব্দ রে বাবা,কে যে এই মেসেঞ্জারের সাউন্ড টা এড করছিল...
মোবাইল ডাটা অন করেই বিরক্তভাবে স্ক্রীনের দিকে তাকায় অর্নব।
মেয়ে আইডি থেকে আসা মেসেজ দেখেই বিরক্তি উবে যায়।
.
-hlw
-hi
-আপনার লেখাগুলো খুব ভাল লাগে।
-ধন্যবাদ।
-আচ্ছা, আমাকে কি একটা লেখা লিখে দিতে
পারবেন ?
-কি নিয়ে?
-আমাকে নিয়ে।
-লাঞ্চ করেন নাই মনে হয়?
-আজব তো।
-আপনাকে আমি চিনি না জানি? আপনাকে নিয়ে
কি লিখব?
.
কয়েকটা রাগী ইমো দিয়ে মোবাইল ডাটা অফ করে দিল অর্নব। এমনিতেই
পরীক্ষা খারাপ হবার কারণে সকাল থেকেই মাথাটা গরম হয়ে আছে। তার উপর যত সব উটকো
ঝামেলা।
চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে অর্নব ।
.
এদিকে অর্পিতারও খুব মন খারাপ। লেখা পড়ে মানুষটিকে যতটা হেল্পফুল
মনে করেছিল ঠিক ততটা নয় অর্নব, দু পয়সার লেখকগুলা এমনই
হয়- মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দিল অর্পিতা।
.
#এক_সপ্তাহ_পরঃ
পুরোনো ইনবক্স চেক করতে গিয়ে অর্পিতার মেসেজটা চোখে পড়ল অর্নবের।
রাগের মাথায় কি না কি রিপ্লাই দিয়েছিল, মেয়েটা আর তো
কিছুই বলল না। সরি বলে নেয়াটাই ভাল হবে।
যেই ভাবা সেই কাজ,সরি লিখে কিছু ইমো
দিয়ে সেন্ড করল অর্পন।
মিনিট পেরিয়ে যায়, ঘন্টা পেরিয়ে যায়;
অর্পিতাকে অনলাইনে সো করছে।কিন্তু কোন রিপ্লাই দিচ্ছে না। এই
একটা সময় অর্পনের খুব খারাপ লাগে, যখন কেউ মেসেজ seen
করেও কোন রিপ্লাই দেয় না; তার উপর আবার
অনলাইনে Activity ও দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কানের গোড়ায়
কেউ থাপ্পর দিয়ে গাল লাল করে দিয়েছে।
এরই ফাঁকে অর্পিতার টাইমলাইন হাতড়ে বেড়াতে লাগল অর্পন। অন্য সব মেয়েদের
মত করে প্রোফাইল সাজায়নি, একটু ভিন্ন। আজকাল তো অধিকাংশ
মেয়েই ফেসবুকের ম্যানেজার, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এট
মিরপুর বাংলা কলেজ..................ব্লা ব্লা ।
.
“জগতের অন্যান্য সব কিছুর মতই আমিও আপেক্ষিক, পরম নই” – Bio এর info টা মুগ্ধ করল অর্নব কে। নাহ, যেমনটা ভেবেছিলাম
তেমন নয় মেয়েটি। দেখতেও বেশ কিউট।
.
অর্পিতা তার নিজ টাইমলাইনে অর্নবের Activity দেখে কিছুটা নরম হলো। রিপ্লাই দিল-
.
-im sorry.too
-কেন?
-আসলে আপনিই ঠিক। আপনি তো আমাকে চিনেন না, হঠাৎ করে তখন আমার ওভাবে বলাটা উচিত হয়নি।
-আপনি কিন্তু আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন।
-লজ্জাও পান তাহলে?
-একটু আকটু তো পেতে হয়।সেদিন আমার মাথাতা ঠিক ছিলনা।
-হইছে, বাদ দিন। আপনি তো আবার চিনেন না
আমাকে।
-অদ্ভুত মেয়ে তো আপনি।
-হুম, চিনলেই বুঝবেন। কতটা অদ্ভুত।
.
#কয়েক_মাস_পর
সকালটা বেশ চনমনে লাগছে অর্পিতার, আজই
তার সেকেন্ড প্রফটা শেষ হবে। পড়তে পড়তে পুরো পাগল হবার জোগাড়। মেডিকেলের প্রফ যে
কি, তা একমাত্র একজন মেডিকেলের ছাত্রই জানে। যেন এক একটা
পুলসিরাত।
বিকেল বেলা কলেজ থেকে বেরিয়ে ভাবল, কোথাও
ঘুরে এলে মন্দ হয় না। হঠাৎ অর্নবের ফোনঃ
-হ্যালো, অর্পিতা। এক্সাম কেমন হলো
তোমার ?
-হুম ভাল। এই শোন, কোথায় আছ তুমি ?
-এইতো, আড্ডা দিচ্ছি বন্ধুদের সাথে।
-আমার সাথে একটু ঘুরতে যাবা ? অনেকদিন
পর একটু প্রফুল্ল লাগছে।
-কই যাবা ?
-যেখানে নিয়ে যাবা। প্রকৃতিকে যেখানে খুব কাছ থেকে উপভোগ করা
যায়।
-আচ্ছা, আসছি আমি। তুমি কলেজ গেটের
সামনেই থাকো।
.
গত কয়েক মাসে অর্নব আর অর্পিতার সম্পর্কটা বেশ সহজ হয়ে এসেছে।
এখন তারা বেশ ভালো বন্ধু। একজনের সুখেদুঃখে আরেকজন পাশে দাঁড়ায়। অথচ কে বলবে,
কদিন আগেই এদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল।
একসাথে ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা,
সোশাল ওয়ার্ক, থিয়েটার , ডিবেট ......... এককথায় অর্পন সুঁই হলে অর্পিতা সুতা। দুয়ে মিলেই
সেলাইয়ে যাচ্ছে শীতের কাথা।
.
.
বিগত এক বছরে অর্পিতাকে বেশ ভালোভাবেই চিনেছে অর্পন। মনের
অজান্তেই সে তাকে নিয়ে চমৎকার একটা লিখা লিখে ফেলল। বেশ খানিকটা বাকি আছে, কিন্তু লিখাটা দিলে অর্পিতার অনুভূতি কি হতে পারে, এটা ভাবতে ভাবতেই আর দেয়া হয়ে উঠে না।
অর্পনকে নিয়ে অর্পিতার দৃষ্টিভঙ্গি আগে থেকেই ভালো ছিল, দিন দিন তা কমেনি............
বেড়েছে বরঙচ।
তার মত লেখা দু পয়সার হলেও মনটা কিন্তু কোটি টাকার। দু পয়সা
কিংবা দু কোটি, সবই অর্পিতার কাছে আপেক্ষিক। এসব
অর্থমূল্যে বিচার হয় না।
.
হাইওয়ে ধরে বাস শোঁ শোঁ করে চলছে। অর্পন দ্রুত আঙ্গুলে চ্যাট করে
যাচ্ছে।
-কোথায় যাচ্ছ, হঠাৎ ?
-এইতো ঢাকা যাচ্ছি। একটা প্রজেক্টের কাজে ।
-ও, বলে গেলেই পারতে।
-একটু তাড়াহুড়োয় ছিলাম। একটা NGO এর
জন্য ডকুমেন্টরি করতে হবে।
-আচ্ছা, তাই বলো।
.
.
. (5 minutes ago)
-hey…hey
-কি হলো? রিপ্লাই দাও না কেন?
.
.
-(30 minutes ago)
-ফোন অফ কেন তোমার?
-কি হলো?
-can you hear me?
-please pick up the phone.
.
.
#পরদিন
হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরে যাচ্ছে অর্পন। বাস এক্সিডেন্ট এ
গুরুতর আহত হয়েছে সে। বাসের
আরো ১২ জন যাত্রী স্পট ডেড। অর্পনের হাত দুটোর অবস্থা খুবই গুরুতর- খুব রক্তক্ষরণ
হচ্ছে। ডাক্তার এসে বললঃ হাত দুটো কেটে বাদ দিতে হবে,নয়ত
বাঁচানো যাবে না। অর্পন কথা বলতে গিয়েও পারল না- বাকশক্তি হারিয়েছে। যেন ঘোরের
মধ্যে আছে, কখন কি হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।
অর্পিতার জন্যে লিখে রাখা লেখাটি দেয়া হলো না। “ভালবাসি”- কথাটি
লিখা হয়ে উঠেনি সে লেখায়। নিজেকে
খুব রিক্ত-শুন্য মনে হচ্ছে এ দু পয়সার লেখকের।
.
.

এইধরনের প্লটে লেখা গল্পগুলোতে সাধারনত টুইস্ট থাকে না। এই গল্পের ক্ষেত্রে প্রায় প্রতি অনুচ্ছেদে ছিল।
উত্তরমুছুনঅনেক পাঠক লেখকের কাছে শেষটা নিয়ে অভিযোগ করতে পারেন। পাঠক মনে এই অভিযোগ তৈরি করতে পারার মধ্যেও কিন্তু লেখকের সার্থকতা।
এই গল্পটাকে দিয়ে স্বল্পসময়ের কোন নাটক বা সিনেমা বানিয়ে ফেলা যায়।
আরও গল্পের প্রতিক্ষায় রইলাম...
ধন্যবাদ
মুছুন